Latest Posts

“চিড়িয়াখানায় মানুষ”

চলুন জেনে নেয়া যাক মানুষকে ধরে নিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনীর কলঙ্কতম একটি ইতিহাস।”

ঘটনাটি ঘটেছিল আমেরিকায়।
চার্লস ডারউইন তখন সবেমাত্র তাঁর বিখ্যাত “অরিজিন অব স্পেসিশ” বইটি প্রকাশ করেছেন।মানুষের (প্রজাতি) উৎপত্তি নিয়ে তখন চারদিকে চলছে আলোচনা, সমালোচনা, বিশ্বাস, অবিশ্বাস আর তর্কের ঝড়।


ইভোল্যুশন থিওরির স্বপক্ষে প্রমান খোঁজার জন্য আফ্রিকা পাড়ি দিয়েছিলেন তখনকার এক মিশনারী ধর্মযাজক ও ব্যবসায়ী “স্যামুয়েল ভার্ণার”। তিনি সেখানে দেখা পেলেন “ওটা বেংগা” নামের বেঁটে করে এক মানুষের যিনি দেখতে ছিল খর্বকায় আর একটু বিকৃত চেহেরার।


ভার্ণার ভেবেছিলেন এই প্রাণীটা মানুষের নিচের স্তরের কোনো প্রজাতি কিংবা বানরের কাছাকাছি কোনো প্রজাতি হবে যা কিনা বিবর্তনের ফলে মানুষের কাছাকাছি স্তরে চলে এসেছে তাই মানুষের মত দেখতে লাগছে। উনি ভাবলেন এটাকে আমেরিকায় নিয়ে গেলে ডারউইনের থিওরির স্বপক্ষে অকাট্য প্রমান হিসেবে দেখানো যেতে পারে।
ওটা বেংগা ছিল তৎকালীন কংগো দেশের অধিবাসী এবং দুই সন্তানের পিতা,বয়স ২৩। ভার্নার ওর স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করে অন্যসব আফ্রিকান দাসদাসীর সাথে নিয়ে এসেছিলেন আমেরিকায়।

আর তারপর ওটা বেংগা কে লুসিয়ানা স্টেটের Bronx zoo চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছিল ডারউইনের থিওরির অকাট্য প্রমান হিসেবে প্রদর্শনীর জন্য।
ওটা বেংগা কে রাখা হয়েছিল বানরের খাঁচায়, কারন তাকে সবার সামনে মূলত বানরের প্রজাতি হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছিল।

ওটা বেংগা কে দেখতে একদিনে সর্বোচ্চ চল্লিশ হাজার দর্শক উপস্থিত হয়েছিল উক্ত চিড়িয়াখানায়, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, কুলে মুজুর, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ধর্মীয় গুরু থেকে শুরু করে সকল স্তরের মানুষ সেই কলংকতম ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছিল সেদিন।


শুধু তাই নয়, বানরের সাথে মানুষ যেরকম আচরন করে ঠিক সেরকমই আচরন করা হয়েছিল ওট বেংগার সাথে। খোঁচা মারা, ঢিল ছোঁড়া, হ্যাঁচকা টান, কলার খোসা দেয়া, হৈ হুল্লোড় করা থেকে শুরু করে সবকিছুই করা হয়েছিল সেদিন ওটা বেংগার সাথে।

যদিও পরে আমেরিকার সুশিল সমাজের বোধদয় হয়েছিল কিন্তু ততক্ষনে যা ঘটার তা ঠিকই ঘটে গিয়েছিল। অনেক আলোচনা,সমালোচনা শেষে ওটা বেংগা কে চিড়িয়াখানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, স্কুলেও ভর্তি করা হয়েছিল, ভাষা শিখানো হয়েছিল কিন্তু ওটা বেংগা তার নিজ দেশে আর কখনো ফিরতে পারে নি। তখন দেশে দেশে লেগে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আর সেসময়ই প্রচন্ড ডিপ্রেশন থেকে রিভলবার দিয়ে নিজের মাথায় নিজে গুলি করে আত্মহত্যা করলো ওটা বেংগা। এভাবেই ইতিহাসের কলংকতম এক অধ্যায়ের মধ্যে নিজেকে জিইয়ে রাখলো “ওটা বেংগা”।

Scenario of Sexual Harassment In Bangladesh

According to a survey about 84 percent of women in bangladesh are subjected to sexual harassment as well as the survey disclosed that three to sixty years old girl and women are prominently targeted by those cruel eyes,hands and mouth. How much ethical hindering have been occured that they dont even care about the age,it doesnot matter to them either the female is child or elderly women.

Firstly we have to define sexual harassment for better understanding.
Any unwarranted sexual behaviour can be considered as sexual harassment or sexual oppression. this can happen from interaction of male to female or female to male. Indeed in a Male reigned society female are the mostly victim of sexual harassment.
Any sexual approaches without woman’s consent are coined as sexual harassment.

According to WHO report about one third of women are subjected to sexual harassment and 7 percent have been victim of rape all over the world. Its horrifying to hear though.

Nowadys, In bangladesh the case of rape and sexual harassment have been arisen a lots, Every day we hear the news of rape in electronic,print, social media and so on.
the most alarming news is that most of the victims are child and the rapist murder them after performing all cruelties.
At presents female are not feeling safe at outside of home, they are suspecting each second,each minutes, each hour,each day that someone are following them.In transport,in road, in office, in market all of the rude eyes and mouth transforming their body to the sex objects.
According to a survey that 41% female are subjected to sexual harassment in bus in bangladesh.
in this situation how could they feel the liberty of living?
Only for this reason, Female at outside always feel frightened. Their mind has set to this except “This country is not favourable for me”

According to Bangladesh Mahila Parishad press briefing that 1737 women were victims of violence from January to october.
There were lots of murder case after rape and the scaring news is that many rape has been done by gang and brutally murdered.

To protect this kind of ethical degrades of society Govt should take hard step as well as all religious groups and NGO will come ahead.
There is a law related to sexual harassment in the Article 18 of our constitution , but this law has not implemented properly. It is not clear to people that that sexual harassment and oppression is related to bad comments regarding one’s appearances or any unwarranted touch. This is because the oppression starts at home. We are oppressed by sexual harassment or oppression because we do not know the laws.
So now, govt should implement properly this law, Additionally new law should be evoked against rape and sexual harassment.

সাইবর্গ(Cyborg) : প্রযুক্তি আর জীবনের বিস্ময়কর সম্মিলন

ধরুন আপনি হঠাৎ স্ট্রোক করলেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে তা জমাটবেঁধে স্নায়ুতন্ত্র বিকল করে দিচ্ছে, শরীরের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে আর আপনি দ্রুতই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

এমতাবস্থায় আপনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে পারে ক্ষুদ্র “সাইবর্গ” বাহিনীর দল। আপনার শরীরের রক্তনালিকায় প্রবেশ করে জমাটবাঁধা রক্তনালিকা দ্রুত সারিয়ে তুলবে তারা। আর তারা সেটা করবে আপনার শরীরে বড় কোনো ক্ষতি ঘটে যাওয়ার আগেই।

শুধু তাই নয়, আপনার শরীরে অনুপ্রবেশ করা ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়ার ও ক্যান্সার কোষের সাথে যুদ্ধও করবে এই সাইবর্গ বাহিনী। এমনকি আপনার সারা শরীরে ঘুরে ঘুরে খুঁজে বেরাবে ভবিষ্যতে কী কী গোলযোগ হতে পারে আপনার শরীরে আর সেগুলোর মেরামতও করবে তারা। মোট কথা তখন আপনার পক্ষে চাইলেও যখন তখন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক করা সম্ভব হবে না,আর করলেও আপনি কিছু টের পাবার আগেই সুস্থ হয়ে যাবেন।

তাহলে “সাইবর্গ” ব্যাপারটা আসলে কী?

  • জীবের শরীরের কোনো অংশে যন্ত্র জুড়ে দিয়ে প্রযুক্তির সমন্বয় করে বানানো এমন এক প্রাণী যেটা কাজ করতে পারে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রিত প্রোগ্রাম দ্বারা অথবা স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে।

অনেকেই ধারণা করছেন বর্তমানে মহামারী আকার ধারন করা করোনা ভাইরাস নাকি চীনের ল্যাবে তৈরি।
এমনটা যদি হয়ে থাকে তাহলে সাধারন একটা মশার মস্তিষ্কে ছোট্ট একটা চিপ প্রবেশ করিয়ে সুদূর আমেরিকা থেকে নজরদারি করা যাবে ঐ ল্যাবে আসলে কী তৈরি হচ্ছে বা হচ্ছিল। যদি না মশাটাকে অন্য কোনো প্রানী খেয়ে ফেলে।

এখনো মশার লেভেলে যেতে না পারলেও আমেরিকার নৌবাহিনী কিন্তু এরকম একটা হাঙর মডিফাই করেছে যেটা সাগরের নিচে শত্রুর সাবমেরিন ডিটেকশন এবং নজরদারি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক মোটরসাইকেল প্রতিযোগী একবার এক্সিডেন্টে তার দুই হাত হারালে সেখানে জোড়া লাগানো হয়েছিল দুটি বায়োনিক হাত যেগুলো শুধুমাত্র মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমেই সত্যিকারের হাতের ন্যায় ইচ্ছেমত চালনা করা যায়। আর এটাই ছিল সাইবর্গ তৈরির বৈপ্লবিক সূচনা। এরপরের কাহিনী হয়তো আপনাদেরও জানা।
ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে যখন ন্যানোমিটার লেভেলের সাইবর্গের দল আমাদের শরীরের ভেতরে আর আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে অথচ আমরা তা টেরও পাবোনা তখন আমরা অতি অবাক হলে সেটা নিতান্তই বোকামি ছাড়া কিছুই হবে না।

“অ্যালজেইমার ডিজিজ : এক ‌নিরব ঘাতকের নাম “

আচ্ছা ভাবুনতো, কিছুক্ষন আগে খুব পুরনো‌ একজন বন্ধুর সাথে দেখা‌ হলো কিন্তু আপনি কিছুতেই তার নামটা মনে করতে পারছেন‌ না, কেমন‌ হবে ব্যাপারটা? লজ্জার?

হয়তো কিছুটা লজ্জার, কিন্তু পুরনো কিছু ভুলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার । কারন আমাদের মস্তিষ্ক শুধু দরকারি জিনিসগুলোই বেশি সময়ের জন্য মনে রাখতে‌ পছন্দ করে, অদরকারি গুলোকে নয় ।

কিন্তু এবার ভাবুন, আপনি আপনার নিজের ফোন নাম্বার ভুলে গেলেন, হঠাৎ করে‌ খেয়াল করলেন আপনার রুমমেটের নাম মনে করতে পারছেন না, কিংবা একটু আগে সাক্ষাত হওয়া ভদ্রলোকের নামটা বাসায় আসতে আসতে ভুলে গিয়েছেন । শুধু তাই নয়, কারো সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ খেয়াল করলেন আপনার কথা বারবার জড়িয়ে যাচ্ছে,কথার মাঝখানে উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন‌ না ।
এইগুলোকেও স্বাভাবিক ভাবছেন?

না, এই ব্যাপারগুলো কিন্তু মোটেও স্বাভাবিক কোনো বিষয় না ।
এইগুলো ইঙ্গিত করে আপনি অনেক বড় একটা রোগের খুব কাছাকাছি আছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাগুলোকে বলে ডিমেনশিয়া(ভুলে যাওয়া) । ডিমেনশিয়া নিজে কোনো রোগ না হলেও এই সমস্যাগুলো কিন্ত হতে পারে আপনার জীবনকে অকালে দুর্বিষহ করে দেওয়া প্রানঘাতী এক রোগের পূর্বলক্ষন যার নাম “অ্যালজেইমার ডিজিজ” ।

নামটা খুব অপরিচিত লাগছে, তাইনা?
আচ্ছা জানেন কি? আমেরিকাতে মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় যেসব রোগের কারনে তার মধ্যে অ্যালজেইমার ডিজিজের অবস্থান ষষ্ঠ

ভাবতে পারছেন এই‌‌ রোগটা‌ কতটা ভয়াবহ অথচ রোগটা সম্পর্কে আমরা বাঙ্গালীরা তেমন কিছুই‌ জানিনা ?
আপনি হয়তো‌ এই তথ্যটাও জানেন না, মধ্যবয়স্কদের মধ্যে মোটামুটি সবাই‌ আমরা এই রোগের ঝুঁকিতে থাকি ।
আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই রোগের চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি ।

আচ্ছা চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রোগটা সম্পর্কে …

১৯০৬ সালে ড. অ্যালজেইমার নামে একজন বিজ্ঞানী‌ সর্বপ্রথম‌ এই রোগের সন্ধান পান । মানসিক ভারসাম্যহীন একজন‌ মহিলার চিকিৎসা ‌করছিলেন তিনি । মহিলা মারা যাওয়ার পর তিনি মহিলার পোস্টমর্টেম‌ করালেন এবং মস্তিস্ক নিয়ে গবেষনা করে বুঝতে পারলেন ‌যে মহিলার মৃত্যুর কারন মস্তিষ্কে কিছু অজানা পদার্থের উপস্থিতি আর নিউরন(স্নায়ু) কোষের অকার্যকারীতা । পরে আরো বিস্তর গবেষনা করে জানা গেলো এইটা আসলে একটা নতুন ধরনের রোগ যা কিনা দিনদিন মানুষের ব্রেনকে ড্যামেজ করে‌ দেয় ।
আর তাই উক্ত চিকিৎসকের নামানুসারেই রাখা হয়েছে এই রোগের নাম ।

জানেনতো ,মানুষের মস্তিস্কের অনেক কাজ ? ঠিক যেন বিমানের পাইলটের মত ।আপনার কাছে মনে হতে পারে ব্যাটা ক্রেনিয়ামের ভেতরে শুধু শুধু বসে আছে , কোনো‌ কাজই করছে না । আসলে কিন্তু তা নয়, আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজগুলোই কিন্তু এই‌ মস্তিষ্ক মহাশয় সম্পাদন করে থাকেন‌। আর মস্তিস্ক আছে বলেই আমরা আজ অন্য সব প্রানী থেকে‌ আলাদা,‌উন্নত।
মস্তিষ্ক নির্মিত হচ্ছে অনেক অনেক ‌‌নিউরন(স্নায়ুকোষ) নামক কোষের‌ সমন্বয়ে (প্রায় 100বিলিয়ন) । আর এই‌ নিউরন কোষগুলোই মস্তিষ্কের সকল‌ কাজের ‌কামলা।

মস্তিষ্কের একেক ‌অংশের একেক ‌কাজ, যেমন‌ কোনো‌ অংশ ঘ্রান নেওয়া, কোনো অংশ‌ কথা বলা,হাঁটাচলা করা, ভারসাম্য রক্ষা করা, খাদ্য চিবানো,খাদ্য গেলা, শ্বাস নেওয়া, হৃদস্পন্দন,স্মৃতিশক্তিসহ আরো কতকিছু ।
কিন্তু কোনো কারনে যখন মস্তিষ্কের কোষগুলোর কার্যকারিতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায় তখনি মানব শরীরে দেখা‌ দেয় নানান ধরনের জটিল জটিল সব সমস্যা । তার মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে অ্যালজেইমার ডিজিজ। সাধারনত এই রোগটি ধরা পরার ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই রোগী মারা যায়, তবে অবস্থাভেদে 20 বছরের অধিকও স্থায়ী হতে পারে ।

আর এই রোগটা সাধারনত 30 বছরের পর দেখা দিলেও উপসর্গ কিন্তু ঠিকই অল্প বয়স থেকেই প্রকাশিত হয় ।

রোগের কারন:

আমাদের মস্তিষ্কে যেই কোটি কোটি নিউরন কোষগুলো ‌রয়েছে সেগুলো একেকটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে সারাদেহে যোগাযোগ রক্ষা করে ।একদম টেলিফোন-লাইন নেটওয়ার্কের মত । আর তাদের সেই সংযোগস্থলকে বলা হয় সিন্যাপসিস । কোনো কারনে যদি উক্ত সংযোগস্থলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মত কিছু ঘটে তখনি মস্তুিষ্কে এবং দেহে নানান ধরনের গোলযোগ দেখা দেয়, গোলযোগ দেখা দেয় উদ্দিপনা গ্রহন ও প্রেরনে।

অ্যালজেইমার ডিজিজে যা ঘটে:

সিন্যাপসিসে দুই ধরনের প্রোটিন জমা হয়ে নিউরন কোষের তথ্য প্রবাহ(কার্যকারীতা) কমিয়ে দেয় ।
১) বিটা এমাইলয়েড প্রোটিন(এটাকে প্লাক্সও বলা হয়)
২) টাউ প্রোটিন (ট্যাঙ্গলও বলা হয়) ।

এক্ষেত্রে যখন যেকোনো দুটি নিউরনের মাঝখানে এই দুটি প্রোটিন জমা হয় তখন উক্ত নিউরন কোষ গুলোর মধ্য দিয়ে স্নায়ু উদ্দীপনা চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয় আর সেই‌ সাথে উক্ত নিউরনগুলোর কার্যকারীতাও‌ কমতে থাকে এবং এক পর্যায়ে এসে সম্পূর্ন কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে অ্যলজেইমার ডিজিজের আবির্ভাব ঘটায় ।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে উক্ত প্রোটিনগুলো মস্তিষ্কে আসে কোথা থেকে,‌ কীভাবেই বা সিন্যাপসিসে‌ প্রবেশ করে আর কমিয়ে দেয় নিউরনের কার্যকারীতা ?

আসলে প্রোটিনদ্বয়ঃ প্লাক্স এবং ট্যাঙ্গল এর উৎস হচ্ছে মস্তিষ্কের নিউরন কোষ নিজেই ।আমরা জানি সব কোষের আবরনই কিছু প্রোটিনদ্বারা গঠিত । নিউরন কোষও ‌এর ব্যতিক্রম‌ নয়। ঐসব প্রোটিন আবরন যখন ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তখনি খন্ড খন্ড প্রোটিনের টুকরা নিউরন কোষের ফাঁকে ফাঁকে জমা হয়ে সৃষ্টি করে অ্যালজেইমার ডিজিজ । আর এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দায়ী করছেন APOE-4 নামের এক জিন কে ।

অ্যালজেইমার এর প্রাধান প্রধান উপসর্গ:

১) সদ্য শেখা কোনোকিছু ভুলে যাওয়া ।
২) সবকিছুতে প্রচন্ড দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে যাওয়া ।
৩) হঠাৎ করে মুড আর আচরন পরিবর্তন হয়ে যাওয়া ।
৪) ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার স্থান এবং সময় নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকা ।
৫) পরিবারের সদস্যদের প্রতি ভিত্তিহীন সন্দেহ পোষন করা ।
৬) কথা বলায় জড়তা চলে আসা, সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে না পারা, উপযুক্ত শব্দ খুঁজে না পাওয়া ।
৭) কোনোকিছু গিলতে অসুবিধা, হাঁটতে অসুবিধা ।
৮) এবং সবশেষে ভয়াবহ মেমোরি লস(স্মৃতিশক্তি একদম কমে যাওয়া )।

এই রোগের মোট ৭টি স্টেজ রয়েছে, যেমন :

1)No impairment:

কোনো উপসর্গ নেই,স্বাভাবিক অবস্থা ।

2)very mild decline:

ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া । ব্যাপারটা স্বাভাবিক বলেই মনে হবে আপনার কাছে ।

3) mild decline:

নতুন পরিচিতদের নাম ভুলে যাওয়া, কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খোঁজে না পাওয়া ।

4)moderate decline:

সকালে কী দিয়ে খেয়েছেন ভুলে যাওয়া,নিজের পূর্বের ইতিহাস মনে করতে না পারা, সহজ যোগ বিয়োগ গুন ভাগ গুলো মনে মনে কষতে সমস্যা হওয়া ।

5)moderately severe decline:

নিজের ফোন নাম্বার ভুলে যাওয়া, অসংলগ্ন পোশাক পড়া(পোশাকের মিল না থাকা), প্রচন্ড দ্বিধাগ্রস্ত থাকা ।

6)Severe decline:

চারপাশের বিপদ সম্পর্কে অসচেতনতা, খুব পরিচিত ছাড়া অন্যদের চেহেরা শনাক্ত করতে না পারা, নিজের ব্যাক্তিগত তথ্যগুলো প্রচন্ড রকম ভুলে যাওয়া, ব্যাক্তিত্ব বোধ কমে যাওয়া , স্বাভাবিক জীবনযাপনে অন্যদের সাহায্য নেওয়া ।

7)very severe decline:

রোগের শেষপ্রান্ত, মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসা । অন্যদের সাহায্য ছাড়া একদমি চলতে না পারা,এমনকি খাদ্য গিলতেও না পারা ।
শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ।

ডায়াগনোসিস পদ্ধতি:

পূর্বে এই রোগ শনাক্তকরন ছিল ‌খুবই সময়সাপেক্ষ এবং কেবলমাত্র রোগটা প্রকাশ পাওয়ার পরেই শনাক্তকরন করা যেত ।যার ফলে রোগীর মৃত্যু ছিল অবশ্যম্ভাবী । সাধারনত মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পদ্ধতি ব্যাবহার করে শনাক্তকরন করা হত এই রোগটি।

কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানী Dr. Shao Huilin(সিঙ্গাপুর) এর নেতৃত্বে এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে যার মাধ্যমে শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষার সাহায্যেই রোগের লক্ষন প্রকাশের অনেক আগেই রোগটি শনাক্ত করা যাবে । যেমন ধরুন আপনার বর্তমান বয়স ২৫, আরো ১৫ বছর পরে অর্থাৎ ৪০বছর বয়সে আপনার অ্যালজেইমার হওয়ার সম্ভাবনা আছে । পূর্বের পদ্ধতিতে শুধুমাত্র আপনার বয়স ৪০ হলেই রোগটি শনাক্ত করা যেত। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে শুধুমাত্র রক্ত পরিক্ষার মাধ্যমে অল্প সময়েই শনাক্ত করা সম্ভব ।আর সেটা সম্ভব ২৫বছর বয়সেই । বিজ্ঞান আমাদের জীবনে কত বড় আর্শিবাদ, এই‌ আবিষ্কার থেকেই খুব সহজেই অনুধাবন করা যায় ।

এইখানে বলে রাখা ভালো, কিছুদিন আগে একটা নিউজ খুব সাড়া ফেলেছিল যে জাপানে গবেষনারত এক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালজেইমার ডিজিজ শনাক্তকরন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন । নিঃসন্দেহে উনার আবিষ্কারটা বিরাট অর্জন , কিন্তু তথ্য বলে‌ উনার আগেই এই পদ্ধতি অন্যরা আবিষ্কার করেছেন ।

চিকিৎসাঃ

আগেই বলেছি এই রোগের প্রতিকার স্বরুপ কোনো ওষুধ আজো আবিষ্কৃত হয়নি । বাজারে যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলো কেবলমাত্র রোগের প্রকোপ কমাতে পারে, এর বেশি কিছু নয় । তবে শরীরে রোগটা বাসা বাধার আগেই যদি শনাক্ত করে ফেলতে পারেন তাহলে হয়তো উক্ত রোগের অবশ্যম্ভাবী আক্রমন থেকে খুব সহজেই বেঁচে যেতে পারবেন ।
যাইহোক আমেরিকাতে যেসব ওষুধ এই রোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তন্মধ্যেঃ

1)Donepezil (Aricept)
2)Rivastigmine (Exelon)
2)Tacrine (Cognex) অন্যতম

তবে আরেকটা আশার বাণী হচ্ছে ,বর্তমানে পৃথিবীর নামী দামী বিজ্ঞানীরা যে অল্প কয়েকটা প্রানঘাতী রোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন তার মধ্যে অ্যালজেইমার ডিজিজ অন্যতম । হয়তো অদূর ভবিষ্যতেই এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার হয়ে যেতে পারে, আবার অনেক বছর গবেষনার পরেও আবিষ্কার না হতে পারে । ব্যাপারটা সম্পূর্ন ভবিষ্যতের উপর ।
তবে আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের নিজেদেরকেই সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে । যে কোনো রোগের লক্ষন দেখামাত্রই আপনার উচিত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগটি ডায়াগনোসিস করার চেষ্টা করা । উদাসীনতা কিংবা অবেহলা শুধুমাত্র আপনার চরম ক্ষতি ছাড়া আপনাকে আর কিছুই উপহার দিতে পারবে না । সামান্য কিছু অবেহলা হয়তো আপনাকে কোনো রোগের এমন এক স্টেজে নিয়ে যাবে যেখান থেকে হয়তো আর রিকভার করা সম্ভব হবে না, সম্ভব হবে না আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে । সুতরাং ,আগেই সতর্ক হোন, সতর্ক করুন আপনার ভলোবাসার মানুষগুলোকে ।

বিঃদ্রঃ পূর্বে উল্লেখিত উপসর্গগুলো পরিলক্ষিত হলেই ‌কেউ অ্যালজেইমার ডিজিজে আক্রান্ত এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই । মস্তুিষ্কের অন্য কোনো সমস্যার কারনেও এমনটা হতে পারে । এক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ ।

source:
http://www.az.org
http://www.nia.nih.gov
http://www.alzheimers.net

বিবর্তনের ধারায় বিলুপ্ত অঙ্গের ফিরে আসা

একজন ৪ বছর বয়সী শিশুর কথা ভাবুন। তার পিঠে, বুকে, গলায়, মুখে কালো তিল ও চুল দেখা যাচ্ছে। তাকে দেখে হয়তো আপনার এক নেকড়েমানবের কথা মনে পড়ে যাবে যে কিনা পূর্ণিমা রাতে নেকড়ে হয়ে যেতো। এই রকম কেউ থাকতে পারে বলে আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেননা। কিন্তু চায়নাতে এমন একধরনের শিশু আছে যদিও সে নেকড়ে হয়না। আবার কিছু কিছু সময় আপনি এমন মানুষের কথা শুনে থাকবেন যাদের লেজ আছে। এগুলো কি শুধু মাত্র হঠাৎ করেই কিছু জিনগত সমস্যার কারণেই হয় না এসব আমাদের পূর্বপুরুষের কিছু বৈশিষ্ট্য মাত্র??

এটাই সেই ৪ বছরের বয়সের শিশু

আবার আপনি সম্ভবতো সবচেয়ে বেশি চুলবিশিষ্ট মানুষের কথা শুনে থাকবেন। মিডিয়া এই ধরনের খবর প্রচার করতে পছন্দওই করে। তারা এটাকে ‘atavism’ বলে প্রচার করে।

Atavism হলো কোনো প্রাণীতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের পুনরাবির্ভাব যা কয়েক প্রজন্ম ধরে পরিলক্ষিত হয়নি কিন্তু অনেক অনেক আগের পূর্বপুরুষে ছিলো।

একটি রূপকচিত্র যেখানে যাচ্ছে একজন মানুষের মুখে অনেক চুল।
এই ধরণের অবস্থাকেhypertrichosis’ বলা হয়ে থাকে

তাহলে কি আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের বৈশিষ্টের দিকে ফিরে যাচ্ছি? হয়তোবা না। আমাদের নিকট আত্মীয় এপদের মুখে সাধারণত চুল থাকেনা। এছাড়া কিছু আর্টিকেল হতে দেখা যায়, দেহ চুলে ঢেকে যাওয়ার প্রবণতা atavism নয় যদিনা আমাদের পূর্বপুরুষ মায়া-নেকড়ে হয়ে থাকে। যদি এটা atavism হতো, তাহলে এটা সেই প্রাণীকে নির্দেশ করেনা যখন আমরা আমাদের বিবর্তন নিয়ে কথা বলি।যেমনঃ শিমপাঞ্জি।

তাহলে কি পার্থক্য atavism আর vestigial structures এর মধ্যে?

vestigial structures হলো এমন উপাঙ্গ যা শরীরে বর্তমান কিন্তু তারা অনেকটা অকেজো।

পার্থক্য আরো ভালোভাবে বুঝতে, উটপাখির কথা ভাবুন। তাদের ডানা আছে, কিন্তু তারা উড়তে পারেনা। তারা এই ডানা অন্যকাজে ব্যবহার করে, যেমন ভারসম্য রক্ষা করতে। কিন্তু তারা এটা অন্য পাখিদের মত আসল কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। এটাই vestigial structures বা অকেজো উপাঙ্গ — তারা ব্যবহৃত হয় কিন্তু যে আসল উদ্দেশ্যে তারা ব্যবহৃত হয়না।

Atavism এর সংগা আগেই বলা হয়েছে। একটা বৈশিষ্ট্যকে atavism হতে হলে সেটাকে অবশ্যই তার পিতা-মাতার মধ্যে থাকা যাবেনা, এমনকি কয়েকপ্রজন্ম পুর্বেও থাকা যাবেনা। আমাদের সচরাচর শুনে থাকা একটা উদাহরণ হচ্ছেঃ মানুষের লেজ।

এটা কোনো ঠাট্টা না যেমনটা কিছু সিনেমায় দেখা যায় লেজ বিশিষ্ট মানুষ, কিন্তু বাস্তবেই এটি হয়। মূলত দুই ধরনের লেজ দেখা যায় মানুষের মধ্যে। প্রথমটা ছদ্ম-লেজ যা অনেকটাই বিরল, আর দ্বিতীয়ত প্রকৃত-লেজ। ছদ্ম-লেজে কোনো হাড়/তরুণাস্থি থাকেনা, এটা শুধুমাত্র কিছুটা চর্বি ও চামড়া। কিন্তু, প্রকৃত-লেজে স্নায়ু ও মাংসপেশি এবং কখনো কখনো কশেরুকা বা তরুনাস্থিও থাকে। যদিও এক্ষেত্রে কিছুটা বিতর্ক আছে। সকল মেরুদন্ডি প্রাণির লেজ তৈরির সামর্থ্য আছে। আর মানুষ মেরুদন্ডী। কিছুটা পিছনে ফিরে যাই যখন আমাদের সবার লেজ ছিলো হয়তো, সেটা আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতো। লেজগুলো আমাদের ভারসম্য রক্ষা করতে সাহায্য করতো, এখানে এটা আমি একটা সম্ভাবনার কথা বলছি। লেজ ছাড়াও আরো কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো atavism হতে পারে। যেমনঃ হাসের মত লেগে যাওয়া হাতের আঙ্গুল, অতিরিক্ত আঙ্গুল, হেচকি উঠা এবং বড় ছেদন দাত। যতদিন না পর্যন্ত আমরা এসবের জেনেটিক্স নিয়ে জানতে পারবোনা, ততদিন আমরা বেশ কিছু ভালো অনুমান করতে পারি।

প্রশ্ন এসেই যায়, কিভাবে এই বৈশিষ্টের জন্ম নেয়? একটা ধারণা করা হয় যে, বিবর্তনের সময় জিনগুলো পরিবর্তিত বা হারিয়ে যাবার বদলে সেগুলো সুপ্ত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ, তারা ওখানে আছে কিন্তু কোনো বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছেনা। ফলে, সেগুলো আবার জেগে উঠতে পারে। কিছু গবেষণা বলছে যে, কিছু প্রজাতি তাদের ডানা বিলুপ্তির মিলিয়ন বছর পরেও আবার ডানা গজাতে পারে। এই প্রজাতিগুলো কি আবার বিবর্তিত হলো? না তাদের ঘুমন্ত জিনগুলো আবার জেগে উঠলো?

বিজ্ঞানীরা এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না যে কিভাবে atavism কাজ করে। তারা ভ্রূণকে ব্যবহার করে এর উত্তর খুজে পেতে। ভ্রূণ মাতৃগর্ভে থাকার সময় তাদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যা পরে মিলিয়ে যায়। তিমি মাছের ভ্রূণে পা থাকার স্থানে কিছু কুড়ি দেখা যায় যা পরে মিলিয়ে যায়। এমনকি, আমাদের ফিটাসে লেজের স্থানে কুড়ি/মূকুল দেখা যায় যা পরে মিলিয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো মিলিয়ে যায়না বরং সেগুলো দৃশ্যমান হয়। আর সেসময় তিমি মাছে পা-সদৃশ উপাঙ্গ বা আমাদের লেজ দেখা যায়।

অবশেষে, atavism কেনো হয়? বিবর্তনে atavism এর কি ভূমিকা আছে? আমরা সেটার উত্তর এখনো জানিনা।

আমরা যখনি জেনেটিক ইনফরমেশনের কথা চিন্তা করি, তখন আমরা ভাবি ক্লোনিং, ডিজাইনার বেবি এরকম বিতর্কিত বিষয়।

কিন্তু একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আমাদের আরো গভীরে ভাবা উচিত আমাদের জেনেটিক ইনফরমেশনের, আর এটা গবেষণার জন্য একটা দারুণ ক্ষেত্র হতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা খুজে পেতে পারি আমাদের প্রত্যেকের প্রশ্নের উত্তর, আমরা কোথা হতে এসেছি এবং আমাদের গন্তব্য কি!

Source: https://science.howstuffworks.com/life/evolution/atavism1.htm?fbclid=IwAR2MoSeKfGeKAyT528DjsCkzc_ukCdSKwSApGPPGbUhY0lDnKxno5gOUW8w

ব্লগটি লিখেছেন….

রিদোয়ান

১ম বর্ষ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

“ব্যাকটেরিয়া বিস্ময়ঃ ফেনোমেনা অব অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স”

একটা বাস্তব গল্প দিয়ে শুরু করি….


অনেকদিন আগে http://www.medicalnewstoday.com তে প্রকাশিত ক্যালিফোর্নিয়া অধিবাসী মাইক নামের এক ব্যাক্তির একটা করুণ কাহিনি পড়েছিলাম।

কাহিনিটা ছিল এইরকমঃ মাইক বাস করতেন একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যেখানে প্রচুর কেমিক্যাল আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ময়লা ছিল।  হঠাৎ একদিন মাইকের হাতে ঘা দেখা দিল এবং দিন দিন সেটা খারাপ অবস্থায় যেতে লাগলো। তারপর তিনি ডাক্তার দেখালেন এবং ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক  খেতে শুরু করলেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন বিভিন্ন টাইপের আর বিভিন্ন মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা সত্বেও তার হাতের ইনফেকশনের বিস্তার কমছে না। মনে হলো কোনো অ্যান্টিবায়োটিক-ই যেনো তার শরীরে কাজ করছে না।শেষে ইনফেকশন এমন পর্যায়ে চলে  গেল যে মাইকের হাতের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিতে হল। এখানেই শেষ না…
কিছুদিন পর সেখানে আবার ইনফেকশন হলো.. তখনো সেই আগের মত অবস্থা,  আবার আরো কিছুটা অংশ কেটে ফেলে দিতে হল..।

এভাবেই চলছিল মাইকের পরবর্তী জীবন।  অর্থাৎ এরপর থেকে মাইকের শরীরের কোথাও কখনো ইনফেকশন হলে সেখানে পঁচন ধরা শুরু হত এবং সেই অংশটা কেটে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকতো না। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন লোকটি অল্প যেই ক’দিন বেঁচে ছিলেন ততদিন কী একটা দুর্বিষহ জীবন পার করতে হয়েছে।
কাহিনিটা একটু লোহমোর্ষক মনে হলো,তাইনা?

Infection by bacteria


 
আতকে উঠার মত আরেকটা নিউজ দেই তাহলে?
জানেন কি? যতই দিন যাচ্ছে আমরা সাধারন মানুষরাও কিন্তু দিন দিন ঐ লোকটার মত হয়ে যাচ্ছি, অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো আমাদের শরীরেও অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে,  অবাক হচ্ছেন?

আচ্ছা দেখুন, আগে আমাদের জ্বর হলে কোনো ওষুধ খেতে হত না, বা খেতে হলেও এসপিরিন অথবা প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খেলেই সেরে যেত, কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন এখন আমাদের সামান্য জ্বর-কাঁশি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়, তবুও অসুখ সারতে চায় না, দিন দিন অ্যান্টিবায়োটিক এর ডোজ আরো বাড়াতে হয়,  এরকম ঘটনা আপনার ক্ষেত্রে কখনো ঘটেছে কী?

টীকাঃ অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে  ফাংগাস থেকে নিঃসরিত ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী একধরনের কেমিক্যাল যা কিনা ব্যাকটেরিয়ার সেল-কম্পোনেন্টস ডিগ্রেডেশন করার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া কে ধ্বংস বা প্রতিরোধ করে। প্রথম সন্ধান পানঃ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং(পেনিসিলিন-1928)।

এখন হয়ত ভাবছেন কেনো এমন হচ্ছে,তাইনা? আচ্ছা আসুন তাহলে দেখি কেনো এমন হচ্ছে….
তার আগে আরেকটা আলোচিত ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়ে রাখি,কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়িত একটা খবর ছিল প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধে অ্যান্টিবায়োটিক এর উপস্থিতি। যদিও মাঝখানে এখন ডেঙ্গু এসে ঐ বিষয়টা সম্পূর্ণ ধামাচাপা হয়ে গেছে, বাংলাদেশে বরাবরই যা ঘটে আর কি….

যাইহোক যা বলছিলাম….
আচ্ছা বলুনতো এই পৃথিবীতে কে চায় দুর্বল হয়ে বাঁচতে??

দিন দিন যেমন উন্নত হচ্ছে প্রত্যেক দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা,ঠিক তেমনি ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়ারাও তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে, নিজেদের কে তারা এমনভাবে পরিবর্তন করছে যাতে মানুষকে আগের চাইতে আরো শক্তভাবে আক্রমন করতে পারে আর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গুলোকে  দেখাতে পারে বুড়ো আংগুল। কীভাবে?

তাহলে শুনুন,  ব্যাকটেরিয়া  Staphylococcus aureus এর কাহিনী।

মানুষের প্রানঘাতী অনেক ইনফেকশনের কারন এই ব্যাক্টেরিয়া 1950 সালের আগে শুধুমাত্র Penicillin দিয়েই হাওয়া হয়ে যেত।
কিন্তু ১৯৫০ সালের পর হঠাত-ই দেখা গেল এই ব্যাক্টেরিয়ার উপর Penicillin আর কাজ করছে না।।
গবেষকরা তখন নতুন  আরেকটা Antibiotic খুঁজে পেল যেটা দিয়ে Stapylococcus কে দমন করা যায়। যার নাম Methiciline(১৯৮০).
কিন্তু  S.aureus  কি এত সহজে দমবার পাত্র??

সে ও প্রস্তুত মানুষের তৈরি নতুন অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্য, তৈরি করলো নিজের নতুন প্রতিরক্ষা স্তর এবং অকার্যকর করে দিল Methiciline কে ।
Microbiologist দের মাথায় চিন্তার ভাঁজ, এসব হচ্ছেটা কি..!

ব্যাপার না, চিন্তার কিছু নেই, S.aureus কে দমন করার জন্য নতুন আরেকটা কার্যকরী  Antibiotic পাওয়া গেল যার নাম “Vancomycin
কিন্ত 2002 সালের দিকে সবাইকে অবাক করে দিয়ে Vancomycin  কেও হার মানিয়ে আবির্ভাব ঘটলো S.aureus এর নতুন প্রকরন। “জয় বাবা ব্যাক্টেরিয়া”
“”এভাবেই মানুষের  বিরুদ্ধে বারবার জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে ব্যাক্টেরিয়া বাহিনী”” আর প্রকৃতিতে আবির্ভাব হচ্ছে তাদের শক্তিশালি রুপ””

Staphylococcus aureus

এখন কথা হচ্ছে কীভাবে এই ব্যাকটেরিয়া গুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যাচ্ছে?

এসব ভাবনা আপনার মাথায় কি কোনো ধরনের গোলমাল পাকাচ্ছে?

এইটা সহজে বুঝতে হলে আসুন তাহলে এবার গুঁড়োদুধের কাহিনিতে ফিরে যায়..

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন গুঁড়োদুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে এইটা আর তেমন কী বিষয়?


কিন্তু না, আজকাল পোল্ট্রি, ডেইরি, ফুড ফ্যাক্টরি , আর ফুড প্রিজারভেশনে যেভাবে নির্মম হারে অ্যান্টিবায়োটিক এর ব্যাবহার বেড়ে চলেছে, সবখানে আমরা যে-হারে পানির মত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাবহার করতে শুরু করেছি তাহলেতো ব্যাকটেরিয়া মহাশয়গণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হবেনই।
আসুন তাহলে এবার প্রতিরোধী হওয়ার পদ্ধতি টা দেখে নেই:
সাধারনত যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক থাকে সেই পরিবেশটা ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ, ঐ পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না,..
ঠিক তেমনি কোথাও যদি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে তবে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে ঐখানে উপস্থিত সকল ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, তবে শর্ত হচ্ছে ঐখানটায় ব্যাকটেরিয়ার “জেনারেশন টাইম আর গ্রোথ” গণনা করে পর্যাপ্ত পরিমানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে যাতে সবগুলো ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
কিন্তু যদি ঐখানে অপর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয় তাহলে দেখা যাবে কিছু ব্যাকটেরিয়া মারা গিয়েছে আর বাকিগুলো ঐ প্রতিকূল পরিবেশেই টিকে আছে, অনেকটা এরকমঃ ১০০ জন মানুষের ভীড়ে ৮০ রাউন্ড গুলি করা হল, কতজন মরবে??


তারপরের ঘটনা হচ্ছে টিকে থাকা ঐসব ব্যাকটেরিয়া গুলো ঐ অপর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক সমৃদ্ধ পরিবেশেই বংশবৃদ্ধি করে আর তাদের বংশধরেরাও ঐ পরিবেশেই বেড়ে উঠে ও টিকে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে ঐ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী একধরনের জিনগত স্থায়ী পরিবর্তন চলে আসে। এবং ফলস্রুতিতে ভার্টিকেল জিন ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী সকল প্রজন্ম  ঐ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে জন্ম লাভ করে।  অর্থাৎ তাদের উপর ঐ অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করেনা।

তাদের প্রতিরক্ষা ঐখানেই থেমে থাকে না,  হরিজন্টাল জিন ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে বায়োফিল্মে উপস্থিত প্রতিবেশি অন্যান্য সকল ব্যাকটেরিয়া গুলোতেও ঐ প্রতিরোধী জিনগুলোকে তারা ছড়িয়ে দেয়। ফলে সমগ্র ব্যাকটেরিয়া গোষ্ঠী ঐ নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকটার প্রতি প্রতিরোধী হয়ে উঠে।

বায়োফিল্মঃ অনেকগুলো ব্যাকটেরিয়াল কলোনি একত্রে বিভিন্ন কেমিক্যাল(লিপিড, প্রোটিন,কার্বোহাইড্রেট)ক্ষরনের মাধ্যমে সুদৃঢ় প্রতিরক্ষাসম্পন্ন নির্দিষ্ট এলাকা প্রতিষ্ঠা। যেমন অনেকদিন ব্রাশ না করলে দাঁতের উপর জমা ব্যাকটেরিয়াল প্লাক।
হরিজন্টাল জিন ট্রান্সমিশনঃ বায়োফিল্মে উপস্থিত আশেপাশের প্রতিবেশি যেকোনো ব্যাকটেরিয়া তে জিন স্থানান্তর পদ্ধতি (তিন প্রকারঃ transformation,transduction,conjugation)
ভার্টিকেল জিন ট্রান্সমিশনঃ প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র সন্তান সন্ততিদের মধ্যে জিন স্থানান্তর পদ্ধতি।

ব্যাকটেরিয়ার এই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার প্রক্রিয়াকে যদি সহজ ভাবে বুঝতে চান তাহলে নিজেকে রবিনসন ক্রুশোর জায়গায় নিয়ে চিন্তা করুনঃ


মনে করুন আপনি হঠাৎ কোনো শ্বাপদসংকুল দ্বীপে আটকে গেলেন।
ঐখানকার প্রতিকূল পরিবেশে বাস করে আপনি অভ্যস্ত না, ঐখানে আপনার মৃত্যু সম্ভাবনা ৯০%। কিন্তু আপনি যদি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আর বছরের পর বছর টিকেও থাকতে পারেন তারমানে ঐ প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য যা যা বৈশিষ্ট্য দরকার তা আপনি অর্জন করতে পেরেছেন।  আর  আপনার অর্জন করা বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার  পরবর্তী প্রজন্ম গুলোতেও স্থানান্তর হবে এবং তারাও সেই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়েই বেড়ে উঠবে। ব্যাকটেরিয়াদের ক্ষেত্রেও একই কাহিনি ঘটে।

Survive in adverse environment

যাইহোক এখন কথা হচ্ছে ব্যাকটেরিয়াগণ যদি এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যায় তাহলে মানুষের কী হবে? সব মানুষ তো অচিরেই মারা যাবে।  এই সমস্যার সল্যুশনস কী?
সল্যুশনস এর একটা পথ অবশ্য ব্যাকটেরিয়া নিজেরাই তৈরি করে রেখেছে। ঐসব অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াগন যদি অনেকদিন উক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এর সংস্পর্শে না থাকে তবে তাদের উপর পুনরায় ঐ পুরনো  অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কার্যকরী হয়ে উঠে।
কীভাবে? সহজ হিসাব, আপনাকে যদি ঐ শ্বাপদসংকুল দ্বীপ থেকে ফিরিয়ে ভালো পরিবেশে আনা হয় তাহলে আপনি নিশ্চয় ঐ দ্বীপে অর্জন করা বৈশিষ্ট্যগুলো অযথা আর ধরে রাখতে চাইবেন না,তাইনা? কারন আপনি জানেন নতুন পরিবেশে ঐ বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার আর কোনো কাজে আসবে না।

ব্যাকটেরিয়ারাও এরকম, তারাও পরিবেশ অনুযায়ী নিজেকে চ্যাঞ্জ করে ফেলে। ফলে তাদের উপর আবার পুরনো অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কাজ করতে শুরু করে। যদিও এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

এ ব্যাপারে আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এজাজ ভাই, অপু ভাইদের রিসার্চ টাইপের একটা পোস্টার ছিল যেখানে দেখানো হয়েছিল ব্যাকটেরিয়ার উপর কিভাবে পুরনো  অ্যান্টিবায়োটিকগুলো পুনরায় কার্যকরী হয়ে উঠে। উনাদের অনেকগুলো সাফল্যের তালিকায় এটা ছিল অন্যতম একটা সাফল্য।

যাইহোক, ব্যাকটেরিয়া কে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী করে গড়ে তোলার পেছনে কিন্তু মানুষরাই দায়ী,আর তাই নিজের ক্ষতি নিজে না করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সবাইকে কতকগুলি নীতিকথা বাতলে দিয়েছেন,এইগুলো মেনে চলতে হবে,নইলে আপনিও মরবেন আর সাথে আমাদেরকেও মারবেন।
  যেমন..

(1) Only use antibiotics when prescribed by a certified health professional.


(২)Never demand antibiotics if your health worker says you don’t need them.


(3) Always follow your health worker’s advice when using antibiotics.
Never share or use leftover antibiotics.


(4) Prevent infections by regularly washing hands, preparing food hygienically, avoiding close contact with sick people, practising safer sex, and keeping vaccinations up to date.


(5) Only give antibiotics to animals under veterinary supervision.


(6) Not use antibiotics for growth promotion or to prevent diseases in healthy animals.


(7)Vaccinate animals to reduce the need for antibiotics and use alternatives to antibiotics when available.


(8)Promote and apply good practices at all steps of production and processing of foods from animal and plant sources.
(source: http://www.who.int)

“জিন মিউটেশন এর আদ্যোপান্ত “

“33 বছরের মিচেলী নামের এক ভদ্র মহিলার এক চাচী এবং মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পরে উনি ভীষণ ভাবনায় পরে গেলেন,
উনার চাচী আর মায়ের যদি এই রোগ হতে পারে তাহলে উনার কেনো হতে পারেনা?
সেই ভাবনা থেকেই উনি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং ডাক্তার পরামর্শ দিলেন কোনো জেনিটিসিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জেনিটিসিস্ট জানালেন যে, উনিও ব্রেস্ট ক্যান্সার পজিটিভ।”এখন কথা হলো কীভাবে ঐ ব্রেস্ট ক্যান্সার এর উদ্ভব হলো এবং কীভাবে সেই রোগটাই হুবুহু পরবর্তী প্রজন্মে আসলো?আসলে সকল প্রানীতেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে যেখানে উক্ত প্রানীর কখন কোন রোগ হবে সেগুলি খুব সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ থাকে (শুধুমাত্র জিনগত রোগের ক্ষেত্রে)। আর এই রোগময় ক্রোমোজমগুলোর আবির্ভাব ঘটেছে অতীতে জিন মিউটেশন নামের এক ঘটনা থেকে।”জিন মিউটেশনঃ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো কারনে ক্রোমোজমের অভ্যন্তরে অবস্থিত জিনের কোনো অংশে হঠাৎ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন।”

তবে কোনো না কোনো প্রজন্মে ক্রোমোজমের অভ্যন্তরে সবগুলো জিন-ই কিন্তু ঠিক ছিল,তারপর হঠাৎ একদিন কোনো এক প্রজম্নে জিনের মিউটেশন ঘটে গেল আর আবির্ভাব হল নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যের বা নতুন কোনো রোগের যেইগুলো তারা বয়ে চলেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।( তথ্যঃ ক্রোমোজমে অবস্থিত প্রত্যেকটা জিনের কাজ হচ্ছে ডিএনএ কোডন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি করা এবং প্রানীদেহের সকল বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে উক্ত প্রোটিনের মাধ্যমে।আর তাই প্রোটিনকে বলা হয় “জীবনের ভাষা”। ডিএনএ কোডন ঠিক থাকলে সঠিক প্রোটিন তৈরি হবে,আর কোনো কারনে (মিউটেশনাল বা অন্য কোনো কারনে) কোডন পরিবর্তন হয়ে গেলে প্রোটিনও তৈরি হবে উল্টাপাল্টা। আর প্রানীদেহে সেইটার কাজও হবে উল্টাপাল্টা, ফলস্রুতিতে আবির্ভাব হয় বিভিন্ন জিনগত রোগের।) আচ্ছা, মনে করুন আপনার বংশে কারোরই কখনো ডায়াবেটিস ছিল না,কিন্তু হঠাৎ করেই আপনাদের বংশে প্রথমবারের মত আপনার শরীরে ডায়াবেটিস দেখা দিল, তারমানে আপনার শরীরেই ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে দায়ী জিন টার মিউটেশন ঘটেছে আর এই রোগটা এরপর থেকে আপনার পরবর্তী বংশধরে ইনহেরিট হবে এবং তাদেরও ডায়াবেটিস হবে, এভাবেই আসলে জিনগত রোগের আবির্ভাব হয়। বলে রাখা ভালো, ক্রোমোজমাল এব্যারেশন এর কারনেও জিনগত রোগ হয়ে থাকে।জিন মিউটেশন এর ভালো খারাপ দুটো দিক থাকলেও, বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরা মনে করেন খারাপ দিকই বেশি,কারন জিন মিউটেশন এর কারনে প্রানীতে তার স্বাভাবিক জিন পরিবর্তন হয়ে অবাঞ্চিত বৈশিষ্ট্য চলে আসে যেগুলো আসলে বিভিন্ন জিনগত রোগের মূল কারন। (যেমনঃ

    • cystic fibrosis,
    • alpha- and beta-thalassemias,
    • sickle cell anemia (sickle cell disease),
    • Marfan syndrome,
    • fragile X syndrome,
    • Huntington’s disease, and.
    • hemochromatosis.
    • Different type of cancer
    • And many more

বিঃদ্রঃ জিনগত রোগ সারাতে হলে জিন থেরাপি করতে হয়। যেইটা আসলে আমাদের জানা অন্য সকল থেরাপি থেকে ভিন্ন একটা পদ্ধতি ,এইটা নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত লিখবো ।আসলে একটা জিনে অনেকবার মিউটেশন ঘটতে পারে। আর কখন কোন জিনে মিউটেশন ঘটবে বা আদৌ ঘটবে কিনা তা কিন্তু কেউই জানে না। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই জিন মিউটেশন ব্যাপারটা কখনো কখনো রোগের পরিবর্তে প্রানীতে এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটায় যেইগুলো উক্ত প্রানীকে করে তোলে অনন্য (যেমন অস্ট্রেলিয়ান MURRAY GRAY গরু)। খুবই সাধারণ মানের এক গরু থেকে হঠাৎ করেই উদ্ভব হয়েছিল উন্নত জাতের MURRAY GRAY গরুর। (source: http://www.nature.com

আবার, উদাহারন হিসেবে দেওয়া যায় HIV ভাইরাস প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের কথা। মানুষের শ্বেত রক্ত কনিকায় ভাইরাস প্রতিরোধী একটা বৈশিষ্ট্যের কারন হচ্ছে CCR5 নামে একটা জিন। এই জিন টার যখন মিউটেশন ঘটে(মিউটেশনের পর নামঃCCR5 delta3) তখন সেই জিন টা হোমোজায়গাস অবস্থায় HIV কে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করতে পারে অর্থাৎ ঐ মানুষে কখনো AIDS হবে না। শুনতে কিছুটা অবাক লাগছে না???? (source: http://www.nature.com)

চিত্রঃ এইডস রোগী

যাইহোক আপনি হয়ত এখন ভাবতে পারেন যে এই জিন মিউটেশনকে কোনোভাবে কাজে লাগিয়ে বা কৃত্রিমভাবে মিউটেশন ঘটিয়ে প্রানীতে এক্সেপ্শনাল কোনো বৈশিষ্ট্য আনয়ন করা যেতে পারে কীনা, সাধারন হিউম্যান থেকে সুপার হিউম্যান তৈরি, এরকম কিছু করা যায় কীনা, তাইনা?বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই এইটা নিয়ে ভেবেছেন আর এখনো হয়তো এইটা নিয়ে রিসার্চ চলমান..।আপনি হয়তো হলিউডের TEENAGE MUTANT NINJA TURTLES নামের মুভিটা দেখে থাকতে পারেন যেইখানে আপনার ভাবনাগুলোর উত্তর রয়েছে।যতদূর শোনা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনী তাদের কিছু যুদ্ধবন্দীদের উপর নিয়মিত অতিমাত্রায় রেডিয়েশন প্রয়োগ করে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছিল। এক্সপেরিমেন্টের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে জিন মিউটেশন এর মাধ্যমে এক্সেপ্শনাল কোনো বৈশিষ্ট্য আনা যায় কীনা সেটা পর্যবেক্ষন করা, সুপার হিউম্যান টাইপের বৈশিষ্ট্য আর কি..।যদিও জার্মান সেনাবাহিনী তাদের সেই এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল আজ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি, কখনো হয়তো করবেও না.……অবশ্য ঐটা কোনো বিজ্ঞানসম্মত এক্সপেরিমেন্টও ছিল না বটে।
অথচ বর্তমানে Genetic Engineering এর মত এমন সব প্রযুক্তি ডেভেলপ হয়েছে যার মাধ্যমে চাইলেই গরুকে খুব সহজেই গন্ডার বানানো সম্ভব।যাইহোক, এখন আবার সেই মিচেলি নামক ভদ্র মহিলার কাহিনিতে ফিরে যাই…
তারপর সেই মহিলা তার সম্ভাব্য ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে বাঁচতে সার্জারি করে তার ব্রেস্ট কেটে ফেলে দিয়েছিলেন, সাথে জরায়ুও। তারপরেও উনি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন কীনা কে জানে…
কিন্তু কতদিন আমরা এভাবে সার্জারি আর কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকবো?
আমাদেরকে এইসব সমস্যার আল্টিমেট সল্যূশন বের করতে হবে আর তবেই আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব নিয়ে আসতে পারবো।
বলা বাহুল্য, আমাদেরকে সল্যুশনস খুঁজতে হবে ডিএনএ পর্যায়ে।